শিরোনাম :
আজ থেকে রাজধানীতে বসবে কোরবানির পশুর হাট বিশ্বে আরও সাড়ে ৭ লাখ শনাক্ত, ১২২৫ মৃত্যু ন্যাটোতে যোগ দিতে চুক্তি স্বাক্ষর করল ফিনল্যান্ড-সুইডেন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা : তথ্যমন্ত্রী মার্সেল টেলিভিশনে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড় ব্যবসায়ীর গায়ে আগুন: স্ত্রীসহ গ্রেফতার হেনোলাক্সের মালিক কোথায় কখন লোড শেডিং, সময় বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আভাস ঈদের ছুটিতে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ ওমিক্রনের দুই সাব ভ্যারিয়েন্টের কারণে দেশে করোনার নতুন ঢেউ বাংলাদেশে করোনায় আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮ কুসিক নির্বাচনে আত্মসমর্পণ করেছে ইসি: সুজন রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, মা-ছেলে দগ্ধ ভারতীয় বিমানের করাচিতে জরুরি অবতরণ

বিএনপির আন্দোলন মুখেই, প্রস্তুতি নেই

  • সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

ঢাা: বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় আর সরকারকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে বাধ্য করা হবে- এমন ঘোষণা দিয়ে আসা বিএনপি আসলে জানে না তারা কী করবে।

বারবার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েও কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে না পেরে কেবল কথার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে দলটিকে। নেতারা বারবার গণ আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিচ্ছেন। বলছেন সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের কথা। কিন্তু গত নির্বাচনের আগে নিজেদের গঠন করা জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই দূরে সরিয়ে রেখেছে বিএনপি।

প্রায় দেড় যুগ ধরে ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে, আন্দোলনে নেমে ব্যর্থতার স্মৃতি নিয়ে দলটির বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার মতো সাংগঠনিক ও আর্থিক অবস্থা আছে কি না, এ নিয়েও আছে প্রশ্ন।

২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের হাতে ক্ষমতা দেয়ার পর বিএনপির দুর্দিন শুরু হয় মূলত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হলে।

সেই বছরের ২২ জানুয়ারি দেশ যখন এতকরফা ভোটে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন ১১ দিন আগে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভার তুলে দেন ফখরউদ্দিন আহমেদের হাতে।

এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয় তাতে ভরা ভরাডুবি হওয়ার পরের জাতীয় নির্বাচনে না এসে তা প্রতিরোধে আন্দোলনে নামে বিএনপি ও তার জোট।

সেই আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার এক বছর পর ফের সরকার পতনের আন্দোলনে নামে তারা। আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সেই আন্দোলন প্রত্যাহার না হলেও তা এক পর্যায়ে অকার্যকর হয়ে যায়। এরপর ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি তার আগের জোটের সঙ্গে নতুন শক্তি বৃদ্ধি করে অংশ নেয়। কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে খারাপ ফলাফল করে।

সেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোট হয়েছে-এমন অভিযোগ এনে বিএনপি আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। আর আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে না হয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে-আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই নেতারা বলছেন সে কথা।

তবে দাবি আদায়ে ‘দুর্বার আন্দোলনের’ কথা বলতে থাকা বিএনপি আসলে কোনো ধরনের কর্মসূচিতে যাচ্ছে না।

বিএনপির সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে নামার ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে। ধাপে ধাপে জনসভা ও নানা কর্মসূচি করে আন্দোলন জমানোর কথাও বলছিলেন নেতারা। বিভাগে বিভাগে জনসভার আয়োজনও করা হচ্ছিল। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসে সব পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দেয়।

গত বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের পর্যন্ত বিধিনিষেধের কারণে বিএনপির পক্ষে রাজপথে কর্মসূচি দেয়া সম্ভব ছিল না।

বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর আবার সভা-সমাবেশ বাড়াতে থাকে দলটি। এর মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে আবার হানা দেয় করোনার তৃতীয় ঢেউ। ফের ঘরবন্দি বিএনপি। বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর রোজা, ঈদ।

ঈদের পর আন্দোলন নিয়ে বিএনপির বারবার হুমকি বাংলাদেশের রাজনীতিতে রীতিমতো রসিকতা হয়ে আছে। এই হুমকি দলটির নেতাদের কেউ কেউ এবারও দিয়েছেন।

কিন্তু ঈদ শেষ, কর্মসূচি নেই। কিন্তু দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা বারবারই বলছেন, কঠোর আন্দোলন হবে। নেতা-কর্মীরা যেন প্রস্তুত থাকেন।

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলতেই পারছেন না আদৌ তারা বড় ধরনের কোনে কর্মসূচিতে যাচ্ছেন কি না। দলের পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদের ভাব তো এখনও যায়নি। কটা দিন যাক। ধৈর্য ধরেন না একটু।

‘আর আপনারা একই প্রশ্ন (বিএনপি কী করবে) যে কেন বারবার করেন? আমরা বারবার বলছি, সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাচ্ছি না আমরা। বারবার একই প্রশ্ন করলে তো জবাব ভিন্ন হবে না, সিদ্ধান্ত পাল্টাবে না।’

বিএনপি নির্বাচন থেকে দূরে থেকে ভোট পর্যবেক্ষণ করবে নাকি আন্দোলনে যাবে। গেলে আপনাদের প্রস্তুতি কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা তো সন্ত্রাসী না যে অস্ত্র নিয়ে কালই ঝাঁপিয়ে পড়ব। দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছি। কিন্তু সেখানে যেন, কোনো অরাজকতা জায়গা না পায়, সেটাই দেখার বিষয়। আমরা আস্তে ধীরে আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সরকারপক্ষ তার আভাস পাবে।’

বিএনপির একজন যুগ্ন মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘আমি বলতে পারি, আমরা প্রস্তুত। আন্দোলনের ঘোষণা তো মহাসচিব দেবেন।’

বিএনপির যেসব নেতা আন্দোলনের কথা সবচেয়ে বেশি চলছেন, তাদের একজন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘আন্দোলন তো একটা যুদ্ধের ময়দান। সেই ময়দানে যুদ্ধের জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে নানান সব প্ল্যানিং করা শেষ। বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে আমরা আমাদের জানান দেব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইনশাল্লাহ আমরা জয়ী হব। দেশের মানুষ মুক্ত হবে। শান্তি ফিরবে।’

বিএনপি মনে করছে দেশের মানুষ বর্তমানে বন্দি। আর জনগণের মধ্যে শান্তি নেই।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved