শিরোনাম :
নাইজেরিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলা, ইমামসহ নিহত ১২ সূচকের সাথে লেনদেনও তলানিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে কোডিং শেখানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশের মর্যাদা বাড়াতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন: পরিকল্পনামন্ত্রী বিশেষ অভিযানে রাজধানীতে গ্রেপ্তার শতাধিক : ডিএমপি দেশে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১০ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে অগ্ন্যুৎপাত সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : কাদের বাংলাদেশিদের জন্য ওমরা পালনের নতুন নিয়ম সরকার নিজেরাই জঙ্গিবাদ করছে : মির্জা ফখরুল ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১২৯৭ টাকা পতন ঠেকাতে ক্ষমতাসীনরা জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে : রিজভী সংকটেও তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি আয়ে সুবাতাস ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ : অনুসন্ধানের নির্দেশ

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছের তেলের উপকারিতা

  • বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাছের তেলের বিকল্প নেই। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় নিয়মিত মাছ রাখতে হবে। কারণ প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মাছ অন্যতম। প্রোটিনের চাহিদা পূরণ ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সমাধানে মাছ যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রোটিন সহজপাচ্য। মাংশের মত মাছ রক্তের কোলেস্টরল বৃদ্ধি করে না বরং মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে।

মাছের বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মাধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন, লৌহ ইত্যাদি। মাছের কাঁটাতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। সেজন্য ছোট মাছ কাঁটাসহ চিবিয়ে খেলে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড় গঠনে সহায়তা করে। বাড়ন্ত শিশু, গর্ভাবস্থা, প্রসূতিমাত্রা এবং চল্লিশোর্ধ বয়সে ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেক বেশি যা নিয়মিত মাছ খেলে পূরণ হয়।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণায় বলা হয়েছে তৈলাক্ত মাছ বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ অ্যাজমা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। এসব মাছের তেল বাতের ব্যথা, অস্থিসন্ধির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা মাছের তেলের উপর আরো গবেষণা করে দেখেছেন যে এই তেলে থাকা ওমেগা-৩ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় ফলে হার্ট এটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও হ্রাস পায়। সুতরাং দেহের প্রোটিনের চাহিদা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধে মাছ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রক্তচাপের সমস্যা কমাতে পারে। ধমনিতে ক্রমশ চর্বি জমলে রক্তবাহী নালি অনমনীয় হয়ে পরে। এরপর রক্তের অণুচক্রিকা ভেঙে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। নিয়মিত মাছের তেল খেলে ধমনিতে ক্রমশজমতে থাকা চর্বির সমস্যা কমতে থাকে। রক্তকে জমাট বাঁধতেও বাধা দেয়। মস্তিষ্কের কাজকর্ম সঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে মাছের তেল। যার নেপথ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি অ্যাসিড। এর জন্য চোখের স্বাস্থ্যও ভালো হবে। দৃষ্টিশক্তিও উন্নত হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় প্রমাণিত, শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ, স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ডিএইচএ চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে। ছয় থেকে দশ বছর বয়সি শিশুরা পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ এবং ডিএইচএ গ্রহণ করলে পরবর্তী জীবনে শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ, স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও মেধার পরিচয় দেয়। ছোট-বড় উভয় মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, আর্থ্রাইটিস রোধে সাহায্য করে, পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখে।

মাছের তেলে রয়েছে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। ছোট কাঁটাযুক্ত মাছকে ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাছে আমিষ ও ওমেগা-৩ চর্বির পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস, যা দাঁত, পেশি ও হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের যত্নে যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য সুখবর হলো এ থেকেও আপনি পরিত্রাণ পেতে পারেন। মাছের তেল ত্বক কে করে ঝকঝকে উজ্জল এবং দীপ্তিময়। এছাড়া ত্বকের বিভিন্ন ধরণের রোগ যেমন, চুলকানি, ত্বকের লালচে ভাব, ত্বকের ক্ষত, ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়িসহ নানান ধরণের রোগ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে মাছের তেল।

অতিরিক্ত মাছ খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সামুদ্রিক মাছের কিছু উপাদানের কারণে গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved