শিরোনাম :
নাইজেরিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলা, ইমামসহ নিহত ১২ সূচকের সাথে লেনদেনও তলানিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে কোডিং শেখানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশের মর্যাদা বাড়াতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন: পরিকল্পনামন্ত্রী বিশেষ অভিযানে রাজধানীতে গ্রেপ্তার শতাধিক : ডিএমপি দেশে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১০ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে অগ্ন্যুৎপাত সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : কাদের বাংলাদেশিদের জন্য ওমরা পালনের নতুন নিয়ম সরকার নিজেরাই জঙ্গিবাদ করছে : মির্জা ফখরুল ১২ কেজি এলপিজির দাম বেড়ে ১২৯৭ টাকা পতন ঠেকাতে ক্ষমতাসীনরা জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে : রিজভী সংকটেও তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি আয়ে সুবাতাস ইসলামী ব্যাংকে ‘ভয়ংকর নভেম্বর’ : অনুসন্ধানের নির্দেশ

স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ, বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে কমিটি

  • মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

ঢাকা: জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা। বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও এখনও কোনো কোনো এলাকা রয়েছে অন্ধকারে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যরাতের মধ্যেই দেশে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

এদিকে কেন হঠাৎ করে বিদ্যুতের এই বিপর্যয় সেটার কারণ সম্পর্কে এখনও সুস্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে এই কমিটি প্রতিবেদন দিলে জানা যাবে কারণ। এছাড়া কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের বাইরেও তদন্ত কমিটি করার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। সর্বশেষ বিদ্যুৎ রিস্টোর হয়েছে রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, মাদারটেক, রামপুরা, গুলশান, উলন, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, আফতাবনগর, বনশ্রী, ধানমন্ডি (আংশিক), আদাবর, শেরে বাংলা নগর, তেজগাঁও, মিন্টুরোড, মতিঝিল, শ্যামপুর, পাগলা, পোস্তগোলা, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকায়।

বিদ্যুৎ বিভাগের সকল দফতর, সংস্থা ও কোম্পানির কর্মকর্তাবৃন্দ, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন, দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার ফেসবুক পেজে বলেছেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানরা অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন। দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে। ধৈর্য ধারণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুর, মগবাজার, মাদারটেক, রামপুরা, গুলশান, উলন, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, আফতাবনগর, বনশ্রী, ধানমন্ডি (আংশিক), আদাবর, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও, মিন্টু রোড, মতিঝিল, শ্যামপুর, পাগলা, পোস্তগোলাসহ বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডিপিডিসির অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে এসেছে। তবে সব এলাকায় পুরোপুরি দিতে পারিনি এখনও। কোথাও কোথাও আংশিক বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন ১৪০০ মেগাওয়াট, এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছি ৯০০ মেগাওয়াট।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী বলেন, ‘ডেসকোর অধীনে বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আমাদের এখনকার যে আবহাওয়া, তাতে ৯০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। আপাতত আমরা ৭০০ মেগাওয়াট পাচ্ছি। তাই লোড ম্যানেজমেন্ট করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি।’

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করেছে। পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক (পি অ্যান্ড ই) মো. ইয়াকুব ইলাহীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের বাইরেও একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানান, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হবে। একটি কমিটি করা হবে বিদ্যুৎ বিভাগের নিজস্ব। এছাড়া স্বতন্ত্র একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ফ্রিকোয়েন্সি গরমিলের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। বিদ্যুৎ যে তরঙ্গে প্রবাহিত হয়, কোনো কারণে এর হেরফের হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাধারণত মিলি সেকেন্ডের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে যায়। এমন ঘটনা প্রতিরোধ করার মতো নানা ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও বিভিন্ন দেশে মাঝে মাঝে গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কোনো সঞ্চালন লাইনে হয়তো একসঙ্গে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। যদি কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে এর দশ ভাগ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গ্রিড ট্রিপ (বিপর্যয়) করার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

একটি সঞ্চালন লাইনে বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহসহ দেশের অধিকাংশ এলাকা একযোগে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সন্ধ্যা সাতটার পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ আসতে শুরু করে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিদ্যুৎ আসা খবর আসতে থাকে। তবে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই বলে জানা গেছে।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved