শিরোনাম :
ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব প্রবাসী আয়ে খাদ্য বিপর্যয় আসছে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা ২৭ মে কম ক্ষতিগ্রস্ত মুদ্রার তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় টাকা দেশে করোনায় মৃত্যুহীন দিনে নতুন শনাক্ত ২৯ মাঙ্কিপক্স: বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি আগামী কান উৎসবে বাংলাদেশের স্টল : তথ্যমন্ত্রী ১৬ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ সৌদি আরবের আজও বড় ধস পুঁজিবাজারে হাজী সেলিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র দাঁড়াতে পারে না: ফখরুল পদ্মা সেতুর কথা শুনলে বিএনপি নেতাদের মুখ কালো হয়: কাদের দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামনের সারিতে খালেদা জিয়া : রিজভী এই সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে: দুদু ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

সংলাপকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত: তথ্যমন্ত্রী

  • বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

ঢাকা: তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সংলাপকে বিএনপিসহ সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত। ভারতে নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে কোনও সংলাপ হয় না। অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে বহুবছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে সেখানেও নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে কোনও সংলাপ হয় না।’

রাষ্ট্রপতির সংলাপকে বিএনপির স্বাগত জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতির পিতা শেখ মুজিব প্রামাণ্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সংলাপকে বিএনপিসহ সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত। ভারতে নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে কোনও সংলাপ হয় না। অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে বহুবছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে সেখানেও নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে কোনও সংলাপ হয় না।’

‘বাংলাদেশে যে সংলাপ হচ্ছে একে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানানো প্রয়োজন ছিল বিএনপির,’ যোগ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতবারও রাষ্ট্রপতির সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেটি যে সঠিকভাবে গঠিত হয়েছিল সেটির প্রমাণ হচ্ছে মাহবুব তালুকদার যিনি নির্বাচন কমিশনের অনেক বিষয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। অনেকে বলেন তিনি বিএনপি বা বিরোধীদের পক্ষ হয়ে কথা বলেন।

‘উনিও সংলাপের মাধ্যমেই কমিশনার হিসেবে স্থান পেয়েছেন। এটিতেই প্রমাণিত হয় সংলাপ কার্যকর। এবারও রাষ্ট্রপতি সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে যাচ্ছেন, এজন্য সংলাপ শুরু করেছেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতে সংহত করার জন্যই এটি করা হচ্ছে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর যে কমিশন দায়িত্ব নেবে, তারাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো আইন না থাকলেও গত দুটি কমিশন গঠন হয়েছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পর। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেছেন সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি এ সংলাপে অংশ নেবে কিনা তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন দুটি কমিশন গঠনের আগে বিএনপি সংলাপে অংশ নিলেও দুটি কমিশন নিয়েই তাদের প্রবল আপত্তি আছে। ২০১৪ সালে বিএনপি ও তার জোটের বর্জনের মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হয় রবিক কমিশনের অধীনে। আর একাদশ সংসদ নির্বাচন করে নূরুল হুদার কমিশন।

বিএনপির অভিযোগ এই দুটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে আর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে জেতাতে কাজ করেছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে ফের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি তোলা হয়েছে। আর সেই সরকার গঠন হলে তারপর ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে সেই ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন কমিশনের কোনো রূপরেখা দেয়া হয়নি।

‘ছাগল খুঁজতে সার্চ কমিটি করা হয়’ বলে বিএনপি নেতাদের দাবির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন নিজেরা বিশেষ কোনো প্রাণীর মতো আরচণ করে অন্যকেও সেই একই প্রাণীর মতো মনে করে, বিষয়টি ঠিক সেরকম।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু নিজের স্ত্রী নাসরিন কাদেরের নাম নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে প্রস্তাব করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, উনি কেন ওনার স্ত্রীর নাম প্রস্তাব করেছেন সেই ব্যাখ্যা তো আমি দিতে পারব না, সেটি মুজিবুল হক চুন্নুকে জিজ্ঞেস করলে ভালো হয়।

‘আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব রাষ্ট্রপতি যে সংলাপ শুরু করেছেন এটি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে সংহত করার জন্যই। শক্তিশালী, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই সংলাপ শুরু করেছেন। আমি আশা করব বিএনপি যত কথাই বলুক না কেন এই সংলাপে অংশগ্রহণ করবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করবে। সবকিছুতে না বলার যে রাজনীতি বিএনপি অনুসরণ করছে সেটি থেকে সরে আসবে। তাদের কোনো আপত্তি থাকলেও সেটিও সংলাপে অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রপতিকে বলে আসতে পারেন, সেটিই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি।

‘তারা যে কথাগুলো রাজপথে বলছেন সে কথাগুলোও তো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলে আসতে পারেন। তাহলে আমি মনে করি সেটিই একটি রাজনৈতিক দলের কাজ হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved