শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় ১৭২ বাংলাদেশি আটক বিরোধী দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বিএনপি: কাদের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব আছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লার ঘটনায় অপরাধীর বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশে পৌঁছেছে আরও ৫৫ লাখ টিকা রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ ৮ম শ্রেণি পাসে চাকরি করুন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে টরন্টোতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত ২০২২ সালেও থাকবে করোনা মহামারি: ডব্লিউএইচও পীরগঞ্জে যেভাবে ছড়িয়েছে হামলার উসকানি বন্যা-ভূমিধসে ভারত ও নেপালে নিহত ১৩৩ আফগান নারী খেলোয়াড়ের শিরশ্ছেদ করলো তালেবান বিশ্বে সংক্রমণ বাড়ছে, একদিনে সাড়ে ৭ হাজার মৃত্যু মালয়েশিয়ায় ১৭২ বাংলাদেশি সহ ২১৩ অভিবাসী আটক গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষিকা আটক

ঘরে ঘরে বোবা কান্না, সংসার চালানোই এখন দায়: বিএনপি

  • সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে এক শাসরুদ্ধকর দু:সহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে দেশের মানুষের জীবন। রাষ্ট্রীয় লুটেরা দস্যুদের পায়ের তলে অশ্রুপাত করছে মানবতা। একদিকে স্বেচ্ছাচারী একনায়ক শাসকের শোষণে নিষ্পেষিত জনগণ অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ উর্ধগতিতে অসহনীয় হয়ে উঠেছে জীবন যাপন।

আজ সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আসলেই তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানুষের ওপর অসহনীয় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে, তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতিতে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলে, তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুযোগ করে দিয়ে, ব্যাংক লুটের সুযোগ করে দিয়ে। কিন্তু তথাকথিত উন্নয়নের তাস দিয়ে মানুষের মন জেতা যাবে না।

তিনি বলেন, করোনার অভিঘাতে মানুষের আয় রোজগারে যখন টানাপোড়েন অবস্থা তখন হু হু করে বাড়ছে নিত্য পণ্যের বাজার দর। খাদ্যদ্রব্য, চাল, ডাল, তেল, লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, তরিতরকারী, মাছ-মাংশ, পোল্ট্রি মুরগি, ডিম, চিনি, দুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্যগুলোর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিদিন এবং ক্রমে এসব পণ্য সংগ্রহ অসম্ভব হচ্ছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর জন্য। এর পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিলও বৃদ্ধি করা হয়েছে পাল্লা দিয়ে। গতকালও এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সরকারের প্রচ্ছন্ন মদদে আওয়ামী লীগের কালোবাজারি, মুনাফাখোর, মজুতদার সিন্ডিকেট। আয়ের তুলনায় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উল্লম্ফন ঘটায় মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ নীরবে আর্তনাদ করছে। ঘরে ঘরে চলছে বোবা কান্না। সংসার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এত কিছুর পরও নিশিরাতের ভোট ডাকাত সরকার নির্লিপ্ত। ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের প্রতি এই সরকারের কোনো রকম যে দায়িত্ব আছে সেটি তারা মনে করে না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো দয়ামায়া নেই। তাই আজকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কারণ এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা যারা লাভবান হচ্ছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগার বা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। তাদের নজর লুটপাটে। আর নিজেদের হরিলুট, ভয়াবহ দুর্নীতি ইত্যাদি অপকর্ম ঢাকতে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বুনে চলছেন হাজার হাজার মিথ্যার জাল। ক্ষমতার নেশায় আচ্ছন্ন আওয়ামী সরকার ন্যায়নীতি ও জনকল্যাণের নির্দেশ গ্রাহ্য করে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্গীরা যেমন আগে বাংলাদেশে আসতো, লুট করতো আর চলে যেতো। এরাও ঠিক একইভাবে লুট করছে এবং বিদেশে তাদের বিত্ত তৈরি করছে এবং সেখানে দেশের সম্পদের পাহাড় গড়ছে। বানিজ্যমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রীরা নিজেরাই ব্যবসায়ী এবং এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। ‘খাদ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজার পরিস্থিতি প্রেক্ষিত খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে অধিকাংশ বক্তাই চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে খাদ্যমন্ত্রী ও তার নিয়ন্ত্রনাধীন রাইস মিলগুলোর ভূমিকাকে দায়ী করেন। মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ব্যবসায়ীদের অতি লোভের কারণে মাঝে মাঝেই চালের দাম বাড়ে। ইতোপূর্বে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর কথা বলা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে চালের দাম এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। বলা হচ্ছে-বাংলাদেশ থেকে চাল রফতানী হচ্ছে, অথচ অব্যাহত চাল আমদানী চলছে একই সঙ্গে হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের বড় ব্যবসায়ী। ভোজ্য তেল, পেঁয়াজের দাম নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। খবরের কাগজে বেরিয়েছে তলে তলে তারা সিন্ডেকেটে জড়িত। সিন্ডিকেট জনগণের পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সবকিছুর দাম এখন চড়া। তেল, চিনি, পেঁয়াজে যেন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে, ছুঁলেই শক করে। এ বছর ইলিশের দামও কমেনি। কারণ দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে প্রতিবেশী দেশে পাঠানো হয়েছে। সেখানে দাম কম, অথচ আমাদের দেশে আকাশছোঁয়া। এই মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই। এর কোন প্রতিকার নেই। কে করবে প্রতিকার ? বাজার সিন্ডিকেটের দাপট দেখে মনে হয় সরকার ও প্রশাসন বাজার সিন্ডিকেটে পৃষ্ঠপোষক। এদেশের মানুষ ফৌত হয়ে গেছে, কিন্তু আওয়ামী রাজন্যবর্গ বিত্ত-বিলাসে মত্ত হয়ে আছে।

রিজভী আহমেদ বলেন, শহীদ জেহাদের শাহাদাত বার্ষিকীতে গতকাল তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ২০১৪ সাল কিংবা ২০১৮ সালের মতো জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে আর জোচ্চুরি-ডাকাতি-প্রতারণা করতে দেয়া হবেনা। জনদাবি মেনে নিয়ে ক্ষমতা জবরদখলকারী চক্র যদি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা মেনে নেয়, তাহলে একটি অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে বিরাজমান সংকটের সমাধান। অন্যথায়, ফয়সালা হবে রাজপথে।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ছাত্র-তরুণ-যুব সমাজকে উপলব্ধি করতে হবে, খুনি লুটেরা চক্র এভাবেই কি ব্যর্থ করে দেবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ ? নাকি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় পূর্বের মতো আবারো ঘুরে দাঁড়াবে ছাত্র-যুব সমাজ। আসুন, আপনার-আমার আমাদের সকলের তথা প্রতি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আবারো ঐক্যবদ্ধ হই।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফৎ আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved