শিরোনাম :
সীমান্তে আবারও গুলির শব্দ, আতঙ্কে স্থানীয়রা রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে কুমিল্লা সুগন্ধা বিচের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে নিহত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে-৩ নেপাল থেকে কমে বিদ্যুৎ চায় বাংলাদেশ, চলছে দর কষাকষি কুলি থেকে কোটি টাকার বাড়ি-ফ্ল্যাট, রাজউকে প্লট রাজু শেখের ৭ মাসে হাফেজ হলেন ১১ বছর বয়সী আল মাহির ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিস্ফোরণ: আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে-২ রাজধানীর যেসব এলাকায় ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না মঙ্গলবার পদত্যাগ করলেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী ‘মার্কিন প্রতিনিধিদল এলেই নালিশে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি’ অনিয়ম ধরা পড়ায় মদিনার ৫৯ আবাসিক হোটেল বন্ধ কনসার্টে নিয়ে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ : মূল হোতা দিহান গ্রেপ্তার

মুসলিম বন্ধুর জানাজার নামাজের পেছনে সুধীর বাবুর কান্নার ছবি ভাইরাল

  • বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঢাকা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে হিন্দু-মুসলিম দুই বন্ধুর অকৃত্রিম ভালবাসার একটি দৃশ্য। ছোটবেলার বন্ধু কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচো গ্রামের বাসিন্দা আমীর হোসেন সওদাগরের (৬৫) মৃত্যুর পর জানাজার নামাজের সময় সবার পেছনে গাছের গুঁড়িতে বসে কাঁদতে দেখা গেছে সুধীর বাবু (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে।

জানা গেছে, হিন্দু ধর্মের হয়েও জানাজার নামাজে বন্ধুর বিদায় লগ্নেও সঙ্গে ছিলেন সুধীর বাবু। তার উপস্থিতি ও কান্না দেখে আগত সব মুসল্লিদের মনে দাগ কেটেছে।

জানাজার নামাজের সময় সুধীর বাবুর কান্নার এমন একটি ছবি বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পোস্টে লেখা হয়, সত্যিকারের বন্ধুত্ব আসলেই এমন হয়। যে বন্ধুত্ব জাত দেখে না, ধর্ম দেখে না, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ চেনে না।

জানা গেছে, দুই বন্ধু কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচো গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকে এক সঙ্গে আড্ডা আর খেলাধুলা করে বড় হয়েছে। এক সময় গুণবতী বাজারে ব্যবসা শুরু করেন দুইজন। মুদির দোকান ছিল আমীর হোসেনের।

তার পাশেই পান বিক্রি করতেন সুধীর বাবু। সুযোগ পেলেই বন্ধুর দোকানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতেন। অবসর সময় কাটত বেশ। কিন্তু মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমীর হোসেন।

বুধবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনলে বন্ধুকে একনজর দেখার জন্য ছুটে যান সুধীর বাবু। আকস্মিক মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। বন্ধুকে কবর দেওয়া পর্যন্ত পাশেই ছিলেন তিনি। বুধবার বেলা ১১টায় তার জানাজা হয়। তারপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গুণবতী বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন টুটুল বলেন, আমির ও সুধীর বাবু দুজনেই খুব ভাল মানুষ। তারা ভাল বন্ধুও ছিলেন। বন্ধুর জন্য বন্ধু এভাবে কান্না করতে কখনও দেখিনি। এমন ঘটনা আমাদের এলাকার সবাইকে অবাক করেছে। সত্যিকারের বন্ধুত্বের বন্ধন কত শক্তিশালী হতে পারে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুধীর বাবু।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক তার ফেসবুক আইডিতে এই ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘আমরা মারা গেলে সুধীর বাবুরা এসে চোখের জল ফেলবে এটাই আমাদের সমাজ এবং দেশ।

আর সুধীর বাবুর মৃত লাশের শেষ যাত্রা যদি আমাদের সম্মুখ দিয়ে ঘটে, তবে তার লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাব। এটাই ইসলাম, এটাই বাংলাদেশ। সবাই মিলে মিশে থাকি। যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করি। সবার জন্য শুভকামনা।’

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved