শিরোনাম :
ঘরের কাজে ব্যস্ত মা প্রাণ গেল শিশুর টানা দরপতনের বৃত্তেই পুঁজিবাজার, আর কত অপেক্ষা বিনিয়োগকারীদের! ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় বুয়েটে রিসার্চ ল্যাব উদ্বোধন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার পুলিশি বাধায় গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড, আহত ৫০ সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ট্রাব স্মার্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেলো ওয়ালটন গাজীপুরে কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুনে শ্রমিক নিহত, দগ্ধ ৬ ভাসানচরে বিস্ফোরণ : আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ আতঙ্কে আবারও গ্রেফতার শুরু করেছে সরকার: রিজভী ডিআইজি মিজানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহাল বাগেরহাটে আ.লীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার ব্যাংকে এমডি নিয়োগে নতুন নীতিমালায় যা আছে আবারও রাজপথ দখলে মাঠে নামছে ইমরান খানের পিটিআই এক ঘন্টায় লেনদেন ২৭৫ কোটি টাকা

মালিক-শ্রমিকের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

  • বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

ঢাকা : বর্তমান প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি রফতানির গতি বৃদ্ধিতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে আমি সবসময় একটা অনুরোধই করব, মালিক-শ্রমিকের একটা সুন্দর সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে।’

আজ বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠানে মাঝে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মালিকদের সবসময় মনে রাখতে হবে, এই শ্রমিকরা শ্রম দিয়েই তাদের কারখানা চালু রাখে এবং অর্থ উপার্জনের পথ করে দেয়। সেই সাথে শ্রমিকদের এই কথাটা মনে রাখতে হবে যে, এই কারখানাগুলো আছে বলেই তারা কাজ করে খেতে পারছেন, তাদের পরিবার প্রতিপালন বা নিজেরা আর্থিকভাবে উপার্জন করতে পারছেন। কাজেই, কারখানা যদি না চলে তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে।

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, যে কারখানা আপনাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে, সেই কারখানার প্রতি আপনাদের যতœবান হতে হবে।

তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অনেক সময় আমরা দেখি বাইরে থেকে কিছু কিছু শ্রমিক নেতা বা কোন কোন মহল উস্কানি দেয় এবং একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে এখন বিশ^ প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতাময় বিশে^ শিল্প কলকারখানা, উৎপাদন এবং রপ্তানি যদি সঠিক ভাবে চলতে হয়, তাহলে, কিন্তু কারখানাগুলো যথাযথভাবে যাতে চলে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি সেখানে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয় তাহলে রপ্তানি যেমন বন্ধ হবে সেখানে কর্মপরিস্থিতি থাকবে না এবং নিজেরাও কাজ হারাবেন। আর তখন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে। সেকথা মনে রেখে শ্রমিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক পালন করতে হবে। কাজেই, এখানে মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালিকদের যেমন শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হবে, শ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং সঠিক কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে তেমনি শ্রমিকদেরও দায়িত্ব থাকবে কারখানাটা সুন্দরভাবে যেন চলে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বলেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৬টি শিল্প খাতের ৩০ প্রতিষ্ঠান বা কারখানাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পোশাক খাতের ১৫টি কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের তিনটি এবং চা শিল্প খাতের চারটি, চামড়া শিল্প খাতের দুটি, প্লাস্টিক শিল্পের তিনটি এবং ওষুধ শিল্প খাতের তিনটি কারখানা।

দেশের অর্থনীতির গতিকে বেগবান ও টেকসই করার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমাণ এবং দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড, ২০২০’ প্রবর্তন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ৩০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২০ তুলে দেন।

পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা কারখানা পেয়েছে ক্রেস্ট, মেডেল, সার্টিফিকেট এবং ১ লাখ টাকার চেক। এখন থেকে প্রতিবছর এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল এবং শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ৮টি নবনির্মিত ভবন ও ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কাজের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্রও পরিবেশিত হয়।

প্রধধানমন্ত্রী এদিন যে স্থাপনাগুলো উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল এবং ৫ শয্যার হাসপাতাল সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, চট্টগ্রামে ৬ তলা বিশিষ্ট শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন ভবন, নারায়ণগঞ্জে ৫ তলা ভবন বিশিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, বগুড়ায় ৩ তলা ভবন বিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ও আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, গাইবান্ধায় ৩ তলা ভবন বিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, বাগেরহাটের মোংলায় ৩ তলা বিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, খুলনার রূপসায় ৪ তলা ভবন বিশিষ্ট শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র এবং রাঙ্গামাটির ঘাগড়ায় শ্রম কল্যাণ কমপ্লেক্স।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved