শিরোনাম :
সরকারের তথাকথিত উন্নয়নে জনগণ ‘সাফার’ করছে: ফখরুল ইডেনের ‘অপরাধী চক্র’কে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে : আ স ম‌ রব মিয়ানমারের সাহস নেই আমাদের সরাসরি কিছু করার: পরিকল্পনামন্ত্রী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব ইরানে ভূমিকম্পের আঘাত, আহত ৫ শতাধিক সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে : খাদ্যমন্ত্রী মিনিকেট নামে কিছু বিক্রি করা যাবে না : মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৪৪ জন ইউক্রেনকে আরও ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন ৩ বিজ্ঞানী অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি ছদ্মবেশ ধরেছে: কাদের বিএনপিকে সিরাতুল মুস্তাকিমে চলার আহ্বান আব্দুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের মূলহোতা বিএনপি: হানিফ সুলতানা কামালরা আওয়ামী অধিকার রক্ষার কর্মী : রিজভী ভিসার নিয়মে পরিবর্তন আনল সংযুক্ত আরব আমিরাত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও নানা জটিলতা, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

  • শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ঢাকা:করোনাসহ নানা জটিলতায় আটকে থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘ তিন বছর পর খুলেছে। শ্রমবাজার খোলার আগে যেসব নিয়মের কথা বলা হয়েছিল, তার কোনোটাই মানা হচ্ছে না। ফলে গতবারের মতোই অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি থেকেই যাচ্ছে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে গুটি কয়েক এজেন্সি লাভবান হলেও মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা দেশের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এর আগে দেশটিতে কর্মী পাঠাতে ১০ এজেন্সির বাইরে কারও অনুমোদন ছিল না। এবার সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে নানা আয়োজন ছিল। প্রতিটি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় যেতে গুনতে হয়েছে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। যদিও তা স্বীকার করেনি এজেন্সিগুলো। তারা এভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়েছে। এবার সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে এক পক্ষের বিরুদ্ধে ছিল আরেক পক্ষের নানা অভিযোগও। সর্বশেষ শ্রমবাজার খুললে সেই আগের সিন্ডিকেটের বাহিরে যেতে পারেনি। গতবারের অধিকাংশ সদস্যই এবারও সিন্ডিকেট করে কাজ পেতে মরিয়া। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই সিন্ডিকেটের বাহিরে সকল এজেন্সিকে কাজ দেওয়ার জন্য দেশটিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

মহামারী করোনার কারণে বন্ধ ছিল দেশটির শ্রমবাজার। গত বছর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। তা এসে গত জুনে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করল। গত জুনে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান এসেছিলেন বাংলাদেশে। সাক্ষাত করে প্রবাসী মন্ত্রীর সাথে বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। যদিও তিনি বলেছিলেন কতটি এজেন্সি কাজ পাবে তা নির্ধারণ করবে তার দেশের মন্ত্রিসভা।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভাননের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ (ফাইল ছবি)

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী সারাভানান জুনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পরই সেই দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ২৫ এজেন্সির বিষয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। তার এমন বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পরপরই সমালোচনার ঝড় ওঠে। কারণ, এর আগে এই মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী মন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে ২৫ এজেন্সির বিষয় চূড়ান্ত করার মত চেয়েছিলেন।‌ কিন্তু তাতে বাংলাদেশের মন্ত্রী সাড়া দেয়নি।

অন্যদিকে গত ২ জুন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানিয়েছিলেন, চলতি বছর মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেবে। এজন্য কোনো চুক্তি বা আলোচনার প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু দেশটিতে কতটি এজেন্সি কর্মী পাঠানোর কাজ পাবে তা নিয়ে সেই সময় তিনি নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেনি।

এবারও এই শ্রমবাজারে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম থেকে যাচ্ছে। এখনও স্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশটিতে শ্রমবাজার খোলার পর প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কোনো দেশের সাথে শ্রমবাজার খুললে প্রতিদিন কম বেশি ফ্লাইট থাকে। কিন্তু সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। পাশাপাশি কিছু জটিলতাও আছে। দেশটিতে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার খুললেও নানা জটিলতায় এখনো তা ফিকে হয়ে যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ পুরোদমে কর্মী যাওয়া শুরু হবে এ প্রশ্নও আছে।

এদিকে এখনো চূড়ান্ত হয়নি কতটি এজেন্সি দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে। মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা কি কি সুযোগ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তাদের বেতন কত হবে। যদিও বেতনের বিষয়টি ঘোষণা করা হলেও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কথা এখনও অস্পষ্ট।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী সারাভানানের পছন্দ ২৫ এজেন্সি। তবে তার পছন্দের এজেন্সিগুলোকে এখনও অনুমোদন দেয়নি দেশটির মন্ত্রিসভা। ফলে আরও এজেন্সির সংখ্যা বাড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, তা অর্ধ শতাধিক পেরিয়ে ৭৫টিও হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া পাঠাতে ৫০ হাজার মানুষের মেডিকেল করিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে মেডিকেল ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আদতে সেটি অর্ধেক লাগার কথা। আর এই টাকার অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে ঢুকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এজেন্সির মালিকরা বলছেন, দেশটি বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ কর্মী নেবে। তা নেওয়া হবে বিভিন্ন খাতে। দেশটিতে যাওয়ার জন্য কর্মী প্রতি খরচ যদিও ৭৮ হাজার টাকা করা হয়েছে কিন্তু সেটি অনেকেই মানবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠাতে মাত্র ২৫ এজেন্সির অনুমোদন বিষয়টি অনেকটাই হাস্যকার তাদের কাছে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দেশটির জনশক্তি ব্যবসায়ী মাফিয়া দাতো আমিনের বিরুদ্ধে নানা অ্যাকশনে নেমেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে তার কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। কয়েক মাস পরেই নির্বাচন। নির্বাচনে নতুন সরকার আসলে এই চুক্তি বাতিল হয় কিনা তা নিয়েও সন্দিহান এজেন্সির মালিকরা।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির বাহিরে যাতে অন্য কেউ কাজ না পায় তার জন্য বায়রায় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। এ নির্বাচনে পছন্দসই নেতা নির্বাচনে এখন থেকে মরিয়া হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা বসবেন এবং কতটি এজেন্সি দেশটিতে কর্মী পাঠাতে পারবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যদিও সিন্ডিকেটের সদস্যরা ২৫ এজেন্সির বাহিরে আর যাতে কেউ কাজ না পায় তা ঠেকাতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান শরীফুল হাসান বলেন, গতবারের মতো অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম থেকে এবারও বের হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এতে যারা যাবেন তারাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এই শ্রমবাজার সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। এবারও অস্বচ্ছতা থেকেই যাচ্ছে।

গতবারের মতো অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম থেকে এবারও বের হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এতে যারা যাবেন তারাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, এই শ্রমবাজার সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। এবারও অস্বচ্ছতা থেকেই যাচ্ছে।

শরীফুল হাসান, মাইগ্রেশন বিভাগের প্রধান, ব্র্যাক

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে সকল নিয়ম মানার জন্য এজেন্সিগুলোকে বলা হচ্ছে তা তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানছে না। এজন্য তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। নয়ত এবারও গতবারের মত অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি থেকে যাবে।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনকে কয়েক দফা ফোন ও বার্তা পাঠালেও তার কাছ থেকে জবাব মেলেনি। এমনকি জনশক্তি রফতানি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর মহাপরিচালক শহীদুল আলমকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved