শিরোনাম :
ন্যাটোতে যোগ দিতে চুক্তি স্বাক্ষর করল ফিনল্যান্ড-সুইডেন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা : তথ্যমন্ত্রী মার্সেল টেলিভিশনে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড় ব্যবসায়ীর গায়ে আগুন: স্ত্রীসহ গ্রেফতার হেনোলাক্সের মালিক কোথায় কখন লোড শেডিং, সময় বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আভাস ঈদের ছুটিতে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ ওমিক্রনের দুই সাব ভ্যারিয়েন্টের কারণে দেশে করোনার নতুন ঢেউ বাংলাদেশে করোনায় আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৯৮ কুসিক নির্বাচনে আত্মসমর্পণ করেছে ইসি: সুজন রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, মা-ছেলে দগ্ধ ভারতীয় বিমানের করাচিতে জরুরি অবতরণ বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়: ফখরুল অনেক দেশেই এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় নয়

  • মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঢাকা : নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি জালিয়াতির ঘটনায় বরখাস্ত কর্মচারী মো. রুবেলের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এ মামলায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেক্ষেত্রে পালিয়ে বিদেশ গিয়ে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত রুবেলের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানিতে আজ মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানিকালে আদালত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথি জালিয়াতি একটা ঘৃণ্য অপরাধ। এর সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের কোনও ছাড় নয়। সাহস ভালো, তবে দুঃসাহস ভালো নয়।

এরপর আদালত এ মামলার আসামি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডেসপাস রাইটার মো. রুবেলের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে দুদককে মামলাটির তদন্ত ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

সেই সংক্ষেপের নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে গোপনীয় তথ্য ফোনে ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপর গত ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে আসামিরা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেয়। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশেও ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেয়।

গত ৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠায়। তবে এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) তরিকুল ইসলাম মমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী ফাতেমা খাতুন, নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস- এর সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ।

এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদ পলাতক রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে তরিকুলসহ চারজন অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved