শিরোনাম :
চিলিতে দাবানলে পুড়ল ১৪ হাজার হেক্টর বনভূমি, অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় আসবেন দুই মার্কিন প্রতিনিধি জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি চায় আইএমএফ খেলাপি ঋণ: সরকারিতে ১০, বেসরকারি ব্যাংকে ৫ শতাংশে নামানোর প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনকে দূরপাল্লার বোমা ‘জিএলএসডিবি’ দেবে যুক্তরাষ্ট্র টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষাধিক ইয়াবা জব্দ মার্কিন আকাশে চীনা নজরদারির বেলুন ‘অগ্রহণযোগ্য’ ৪০টি দেশ বয়কট করতে পারে অলিম্পিক আজ ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় ‘পথ ভুলে’ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে সেই ‘গোয়েন্দা’ বেলুন, দাবি চীনের তালিবানি শিক্ষানীতির প্রতিবাদ জানানো সেই শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত প্রায় ২ লাখ, মৃত্যু ১ হাজার ৩শ’র ওপর ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া বিশ্বে অনন্য উদাহরণ : সেনাপ্রধান দেশে আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত, নেই মৃত্যু গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ এগোলো বাংলাদেশ

প্যাকেটজাত খাবারে মাত্রাতিরিক্ত লবণ, ঝুঁকিতে ৯৭ ভাগ মানুষ

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ঢাকা: বিস্কুট, চিপস-চানাচুর কিংবা সুপের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার খাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়ার দুষ্কর। নিত্যদিন সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায়ও অনেকেই প্যাকেটজাত এমন খাবার খেয়ে থাকেন। তবে প্রক্রিয়াজাত এই খাবার গ্রহণের ফলেই দেশের ৯৭ ভাগ মানুষ বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন!

বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের (এনএইচএফবি) করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে- দেশে তৈরি প্রক্রিয়াজাত খাবারের ৬১ শতাংশেই নিরাপদ মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত লবণ রয়েছে। আর মাত্রাতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের অন্যতম কারণ।

গবেষণার তথ্য বলছে, দেশে প্রক্রিয়াজাত আচার ও চাটনিতে লবণের উপস্থিত রয়েছে ৮৩ শতাংশ। এছাড়া চিপসে ৬৩ শতাংশ ও ডাল-বুট ভাজার মতো খাবারে ৬০ শতাংশ লবণের উপস্থিতি রয়েছে। যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

Researchবুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (এনএইচএফবি)। সেই সঙ্গে খাবার প্যাকেটজাতকারী বড় কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকাসহ ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সল্ট কন্টেন্ট অ্যান্ড লেবেল কমপ্লায়েন্স অব কমনলি কনজিউমড প্রোসেসড প্যাকেজড ফুডস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে ওই গবেষণা পরিচালনা করে এনএইচএফবি। এতে দেশের আটটি বিভাগ থেকে বিভিন্ন বয়সের ৯৭৪ জন অংশগ্রহণ করেন। আর গবেষণায় ১৬টি প্যাকেটজাত পণ্যের ১০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে জরিপের তথ্য তুলে ধরে গবেষণা সমন্বয়কারী ও ফাউন্ডেশনের রেজিস্টার ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান জানান, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ এ ধরনের খাবার গ্রহণ করেন। একজন ব্যক্তি সপ্তাহে ১৫ বার অর্থাৎ দৈনিক দুবারেরও বেশি এমন খাবার খান।

ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে লবণের নিরাপদ মাত্রা ৭৫০ মিলিগ্রাম বিবেচনা করেছে এনএইচএফবি। এই হিসেবে গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত ৬১ শতাংশ প্যাকেটজাত বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, নুডলস, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ঝালমুড়ি, আচার, চাটনিতে লবণের উপস্থিতি এই মাত্রার চেয়ে বেশি।

প্রক্রিয়াজাত এই খাবারগুলোয় লবণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা নেই জানিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খাবারে তাদের ইচ্ছেমতো লবণ মেশাচ্ছে। এর প্রমাণ, গবেষণার আওতায় থাকা প্যাকেটজাত খাবারের ৪৪ শতাংশেরই প্যাকেটে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি লবণের উপস্থিতি মিলেছে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ডা. আবদুল আলীম। বিষয়টিতে তিনি বলেন, খাবারে লবণের পরিমাণ কতটুকু তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্যাকেটের গায়ে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু তারা ডিক্লেয়ারেশন দিচ্ছে যে এক গ্রাম লবণ আছে, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ছয় গ্রাম। এটা খুবই খারাপ, তার মানে তারা যে ক্লেইম করছে এর বেশি লবণ দেওয়া হয় নাই, সেটা কিন্তু তারা বাড়িয়ে বলছে।
এটা ঠিক না, তারা আইন অমান্য করছে। এ ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। বড় প্রতিষ্ঠান যারা খাবার প্যাকেটজাত করছে তাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতন হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ডা. আবদুল আলীম

এদিকে, প্যাকেটজাত এমন খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘লবণ বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ে, অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ কারণে আমরা যদি লবণ খাওয়া কমাতে পারি তাহলে উচ্চ রক্তচাপ কমবে, অন্যান্য আরও কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ প্রধান মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক খালেদা ইসলাম, অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, এনএইচএফবির সল্ট রিডাকশন প্রোগ্রামের পরামর্শক আবু আহমেদ শামীম, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. এনামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved