শিরোনাম :
ভারতেও নজরদারি চালিয়েছে চীনের গোয়েন্দা বেলুন, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি: বাংলাদেশে আজ রাষ্ট্রীয় শোক রাশিয়ার ‘কুখ্যাত’ সেনা কমান্ডার গুলিতে নিহত স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহের পাশে জীবিত যে প্রাণ টুইটার ডাউন: সমস্যায় কোটি ব্যবহারকারী রাজধানীতে মাদকসহ ৬৬ জন গ্রেফতার যাত্রাবাড়ীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের ভূমিকম্প : তুরস্ক-সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়ালো বিএনপির আজকের পদযাত্রা কর্মসূচি স্থগিত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তে শীর্ষে জাপান, মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বেলজিয়ামের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি ভয়াবহ ভূমিকম্প : যে ছবি আর ভিডিও চোখে জল আনছে ভূমিকম্প : তুরস্কে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

দুই ইস্যুতে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ, চাপ বাড়াতে চায় বিএনপি

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২

ঢাকা: গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের গণসমাবেশে বিএনপির ঘোষণা করা ১০ দফা আমলেই নিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা তাদের বক্তব্যে ইতোমধ্যেই তা স্পষ্ট করেছেন। এমনকি সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার- এ দুই দাবি নিয়ে আলোচনার টেবিলেও বসতে নারাজ আওয়ামী লীগ নেতারা। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘বিএনপির ১০ দফা দাবির মধ্যে নতুন কিছু নেই। সব পুরনো কথা। এরপরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে মেনে নেওয়ার মতো কোনো দাবি আছে কিনা।’

তবে ক্ষমতাসীনরা ভ্রুক্ষেপ না করলেও বিএনপি নেতারা বলছেন, রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে ১০ দফা মানতে বাধ্য করবেন তারা। এছাড়া সরকারের ওপর কৌশলগত চাপ বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি। সেক্ষেত্রে কুটনৈতিক তৎপরতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের জামিন না হলেও যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমেই নেতাদের মুক্ত করার চিন্তা করছে বিএনপি। তবে তাদের এ চিন্তার মধ্যে এক টেবিলে বসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলে জানা গেছে।

এদিকে গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চয়াল বৈঠকেও গোলাপবাগের সমাবেশে ঘোষণা করা ১০ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ১০ দফা আদায়ে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় যুগপৎ গণমিছিল করবে বিএনপি। আর ঢাকার বাইরে ২৪ ডিসেম্বর যুগপৎভাবে গণমিছিল করা হবে। সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি। যদিও গোলাপবাগের সমাবেশ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকাসহ সকল বিভাগ ও জেলায় গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল দলটি। তবে ওই দিন ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থাকায় দলটির অনুরোধে বিএনপি ওই দিন ঢাকার গণমিছিল কর্মসূচিতে এই পরিবর্তন এনেছে। শিগগিরই পরিবর্তিত কর্মসূচি ঘোষণা করার বিষয়েও ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

তবে বিএনপিও তাদের ঘোষিত ১০ দফা আদায়ে অনঢ়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে- সেই রূপরেখা আমরা ঘোষণা করব।

অন্যদিকে নির্বাচনকালীন লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে দলটি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি। যা গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর সরকারের সমালোচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশনগুলোর যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়া গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নিখোঁজ নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের শাহিনবাগের বাসায় যান, সুমনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। সুমন ২০১৩ সালে নিখোঁজ হন।

অন্যদিকে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে বিএনপি যে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে, তা একেবারেই নতুন নয়। বরং দলটি অনেক দিন ধরেই এসব দাবি জানিয়ে আসছে। এবার তারা দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট করল। বিএনপির দাবির ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীতমুখী। আওয়ামী লীগ স্পষ্টতই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনমুখী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির নেতারা এখন থেকেই মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। অন্যদিকে বিএনপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দাবি আদায় না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি কীভাবে তাদের দাবি আদায় করবে? ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কি বিএনপির দাবি মেনে নেবে? এসব প্রশ্ন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে প্রায় এক যুগ ধরে রাজপথে আছে বিএনপি। কিন্তু এই সময় তারা কোনো ফল অর্জন করতে পারেনি। আগামী দিনেও যে দলটি সহজে কিছু পেয়ে যাবে, এমনটা বিএনপির নেতাকর্মীরাও বিশ্বাস করেন না।

এছাড়া ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ ও দলটির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগকে রাজনৈতিক শক্তির লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, বিএনপি শক্তি দেখাতে চাইলে সরকার ও আওয়ামী লীগ একই কায়দায় জবাব দেবে। দলীয় সূত্র বলছে, চাপে রেখে ও শক্তি প্রয়োগ করেই বিএনপিকে গত প্রায় ১৪ বছর ‘নিয়ন্ত্রণে’ রেখেছে সরকার। এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার যে সক্ষম, সেটি গত কয়েক দিনে আবার দেখানো গেছে।

ঢাকার গোলাপবাগে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ এবং দলটির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে এখনো আওয়ামী লীগের ভেতরে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা মূল্যায়ন হয়নি। তবে দলের নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিচার-বিশ্লেষণ করছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, বিএনপি যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে নতুন কিছু নেই। ১০ বছর ধরেই এসব দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা আন্দোলন করছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালেও তারা শক্তি দেখিয়ে দাবি আদায় করতে চেয়েছে। তখন সরকার ও আওয়ামী লীগ তা শক্তি দিয়েই প্রতিহত করেছে এবং বিএনপি হেরে গেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন-সমাবেশে ঘোষণা দিয়ে এই দাবি অর্জন সম্ভব নয়। এমনকি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়টি আলোচনার টেবিলেও আনতে রাজি নন তারা। কারণ, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোতে তা সম্ভব নয়। ফলে বিএনপিকে দাবি আদায় করতে হলে শক্তি দিয়ে বাধ্য করতে হবে সরকারকে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপির পক্ষে তা করা সম্ভব হবে না।

বিএনপির সরকারবিরোধী এক দফার আন্দোলনের বিষয়টি মাথায় রেখে এই মুহূর্তে তিনটি অগ্রাধিকার ঠিক করেছে আওয়ামী লীগ। প্রথমত, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী করে ভোটের জন্য প্রস্তুত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা জোরদার করা। তৃতীয়ত, সরকার সম্পর্কে পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো।

তবে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে আওয়ামী লীগও তৎপর হয়ে উঠেছে। গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে গত সোমবার চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের জানিয়েছি। কারণ, তারা (বিএনপি) ১০ তারিখের পর থেকে নানা সময়ে বিভিন্ন দূতাবাসে গিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে দেন-দরবার করছে। বিএনপির দেন-দরবার ঠেকাতেই তথ্যগুলো জানানো হয়েছে।’

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved