শিরোনাম :
শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা বিশ্বজুড়ে করোনায় দিনের ব্যবধানে শনাক্ত কমেছে ৫১ হাজার ডেনমার্কের শপিংমলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ‘আলবদর’ নেতা আমিনুল গ্রেফতার তুরস্কে রাশিয়ার জাহাজ আটক দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম বাংলাদেশে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৯০২ বিদায়ী অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলো ১৫ শতাংশ ঢাবি ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ১৪.৩০ হাজীরা কেন কাফনের মতো সাদা কাপড় পরেন ডব্লিউটিওতে ভারতের বিরোধিতা পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ১৯ নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলিনি : প্রধানমন্ত্রী সূচক পতনে লেনদেন চলছে

তেলের দাম কমাতে, নাকি ভাড়া বাড়াতে ধর্মঘট

  • শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১

ঢাকা : ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার থেকে পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছে দেশ। তবে এ ধর্মঘটে পণ্য পরিবহন চলাচল বন্ধে কেন্দ্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকলেও গণপরিবহন বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন না পরিবহন মালিক নেতারা। ধর্মঘট নিয়ে পরিবহন মালিক নেতাদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মত। কয়েকটি পক্ষ ডিজেলের মূল্য কমানোর দাবি আদায় করতে ধর্মঘটকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে আবার কোনো পক্ষ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোতেই জোর দিচ্ছে।

রোববার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বাসের ভাড়া বাড়ানো বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের আলোচনার ওপর নির্ভর করে ধর্মঘটের বিষয়ে নতুন মোড় নিতে পারে। কারণ বাস মালিক সমিতি চাচ্ছে বাসের ভাড়া বাড়ানো হোক আর পণ্য পরিবহন মালিকদের মূল দাবি ডিজেলের মূল্য কমানো।

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াকে সমস্যার সমাধান মনে করছেন না বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন মো. মজুমদার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিজেল ও কেরোসিনের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে। পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি কখনো যুক্তিসংগত সমাধান হতে পারে না। একটি পক্ষ সরকারকে খুশি করতে কোনো ধরনের আন্দোলনে যেতে চাচ্ছে না। তাদের চাওয়া শুধু ভাড়া বাড়ানো।’

যদি ভাড়া সমন্বয় করে বাস মালিকরা ধর্মঘট তুলে নেন, তখন পণ্য পরিবহনের ধর্মঘটের অবস্থান কেমন হবে জানতে চাইলে মজুমদার বলেন, ‘তখন পণ্য পরিবহনের সব নেতা মিলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ডিজেলের দাম কমানো, এ জন্যই আমরা ধর্মঘট ডেকেছি।’

আগামীকালের বৈঠকে বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আট বছর ধরে বাসের ভাড়া বাড়ছে না। আমরা ২০১৯ সালেই বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এখন আবার ডিজেলের দাম বেড়েছে। ডিজেলের দাম কমলে ভালো কথা; কিন্তু না কমলে ভাড়া সমন্বয় হওয়া দরকার।’

বিআরটিএর বৈঠকে যদি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়, তাহলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আশা করি, ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে।’

পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলছেন না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতেও তাঁর সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলছেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচির সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) দেশে নেই। এমন অবস্থায় কর্মসূচি দিয়ে তেমন কোনো লাভ হবে কি না, তা-ও বোঝা যাচ্ছে না।’

চলমান ধর্মঘট বিচ্ছিন্ন তৎপরতা কি না এবং এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী—এই প্রশ্নে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘জেলাভিত্তিক সিদ্ধান্তে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। আমরা কেন্দ্র থেকে একযোগে কোনো কর্মসূচি দিইনি।’

এদিকে চাকরিসহ নানা বিষয়ে পরীক্ষার্থী এবং জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল নিজের সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি তিনি এ আহবান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামীকাল বিআরটিএর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।’

এদিকে ধর্মঘটের কারণে দূরপাল্লার বাসসহ নগরকেন্দ্রিক বাস চলাচলও গতকাল বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে হিউম্যান হলার (লেগুনা) ও থ্রি হুইলারের মতো গণপরিবহনগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী পরীক্ষার্থীদের। কাছাকাছি গন্তব্যের বেশির ভাগ যাত্রীই হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে দূরের যাত্রীদের রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাপভিত্তিক সেবায় গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায়, কিছু জায়গায় বিআরটিসির বাস চলাচল করেছে। তবে চলেনি কোনো বেসরকারি পরিবহনের বাস। ফলে সড়কে দাপিয়ে বেড়ায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল। এসব পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদের।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved