ঢাকা : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৬ অক্টোর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছেন বিশ্ববেহায়া এরশাদ। এরশাদ কার লোক? বিশ্ববেহায়া এরশাদ তো শেখ হাসিনার সার্টিফাইড বন্ধু। সরকারের অপকর্ম ঢাকার জন্য আগে বেফাঁস কথাবার্তার প্রতিযোগিতা ছিল ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদের মধ্যে। তাদেরকে এখন টপকাতে চান এই অবৈধ তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।
তিনি বলেন, ইসলামধর্ম নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্যের পরে ঘটনা ঘটলো কুমিল্লায়, এরপরে সারাদেশে টেনশন, উত্তেজনা, রক্তপাত, পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। গতকাল চৌমুহনীতে উত্তেজনা বিরাজ করেছে। আজ ১৪৪ জারি করেছে। কেন এই পরিস্থিতি? ওই যে মুরাদ যে বক্তব্য রেখেছে তারপরেই এই ঘটনা। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সরকারের সকল অপকর্ম, সকল জনবিরোধী কর্ম, রক্তপাত গুম-খুন সবকিছু আড়াল করার জন্য এবং দ্রব্যমূল্য যে বাড়তি, সেগুলো আড়াল করার জন্য এসব ঘটনা। সরকারের এজেন্সির যে নীলনকশা, সেই নীলনকশারই একটা অংশ কুমিল্লার ঘটনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনি নাকি দেশের জনগণকে নিরাপত্তা দেন। তাহলে আজ কেন এই দেশের জনগোষ্ঠীর কোনো নিরাপত্তা নাই?
তিনি বলে, এদেশের কোনো মুসলিম-হিন্দু এই ঘটনা ঘটাবে না, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনের দেশ বাংলাদেশ। সেখানে আপনার আমলেই রামু, উখিয়া, টাঙ্গাইল, পাবনায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি লুট করা হয়েছে। বিএনপি ১৯৯১, ২০০১ সালে ক্ষমতায় ছিল। তখন তো কোনো মন্দিরে হামলা হয় নাই। তাদের ধন-সম্পত্তি লুট হয় নাই।