শিরোনাম :
চীনে নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ল্যাংগায়া ভাইরাস, আক্রান্ত ৩৫ দেশে ৩০ দিনের ডিজেল, ১৯ দিনের অকটেন মজুত আছে জুলাই পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার ১১৯ সাংবাদিক, টিআইবির উদ্বেগ গরিব মানুষের দুঃসময় কেটে যাবে : অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯৮ খোলাবাজারে ডলারের দাম ১১৯ টাকা ছাড়াল সংকট সাময়িক, মোকাবেলায় ঐকবদ্ধ্য থাকার আহবান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বিমানবন্দরের সবাইকে ‘ভালো ব্যবহারের কোর্স’ করানোর সিদ্ধান্ত থালা-বা‌টি নি‌য়ে গরীব-মধ্যবিত্তদের মানববন্ধন নারী সহকর্মীকে আপত্তিকর মেসেজ, রসিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত বিপিসির লাভ-লোকসানের হিসাব জানতে চায় জনগণ : সিপিডি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্যই তেলের দাম বেড়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গদি টিকিয়ে রাখতে সরকার অর্থনীতির সংকট নিয়ে লুকোচুরি খেলছে: রিজভী বিএনপিরই রাজনীতি থেকে বিদায়ের সময় এসেছে: কাদের বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দলকে সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র

ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে ছেলের মুখে জুতা পেটা দেখে বাবার মৃত্যু!

  • শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুরে অসুস্থ বাবার সামনে ছেলের নিজের মুখে জুতার বাড়ি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান বিপাসের পা ধরেও ক্ষমা চাইতে হয়েছে ওই তরুণকে। এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অসুস্থ পিতা গিয়াস উদ্দিন সরকার।

গত ৮ ডিসেম্বর মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন (৬২)। ছাত্রলীগ সভাপতির প্ররোচনায় নিজের ছেলে মুখে জুতার বাড়ি মারতে দেখে আরো অসুস্থ পড়েন গিয়াস উদ্দিন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ভুক্তভোগী ওই তরুণের নাম এস এম সরকার ওরফে হোসেন সরকার। তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বাড়ি মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে। মুখে জুতা মারার ঘটনার পর দুঃখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এস এম সরকার লিখেছিলেন, ‘মানুষ কখন আত্মহত্যা করে?’।

পিতার মৃত্যুর পর তিনি কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন। শুধু বলছেন, ‘ওরা আমাকে জুতা মারতে বাধ্য করার কারণে অসুস্থ বাবা খুব কষ্ট পেয়েছেন, যে কারণে তাকে বাঁচানো গেল না।’ এস এম সরকারের ভগ্নিপতি মোমিনুর রহমান বলেন, এস এম সরকার ছাত্রলীগ করেন। মাঝে কিছুদিন ঢাকায় ছিলেন। অল্প দিন হলো বাড়িতে এসেছেন। তিনি ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের বিপক্ষে ছিলেন। দুই পক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ে লেখালেখি করে। এই লেখালেখি নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তাঁর শ্বশুর গিয়াস উদ্দিন সরকার ৭ ডিসেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং কিছুটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালে বাবার পাশে ছিলেন ছেলে এস এম সরকার। সেখানে তাঁর মা মোছা. খাদিজা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। একদিন রাতে ছাত্রলীগ নেতা আরিফুজ্জামান বিপাস তার অনুসারী নিয়ে সেখানে যান। তাঁরা এস এম সরকারকে পেয়ে অসুস্থ বাবা ও পাশে থাকা মায়ের সামনেই তাঁর ওপর চড়াও হন। ফেসবুকে নানা কথা লেখার প্রসঙ্গ তুলে চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় এস এম সরকার তাঁদের আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি দেখে ক্ষমা চান। একপর্যায়ে পায়ে ধরেও ক্ষমা ভিক্ষা চান। এরপরও ছাত্রলীগ সভাপতি নিজের পায়ের জুতা খুলে এগিয়ে দেন। হুকুম দেন নিজের মুখে জুতার বাড়ি মারতে। উপায় না দেখে এস এম সরকার নিজের মুখে জুতা দিয়ে বাড়ি মারেন।

জুতা মারার ঘটনা সরাসরি অস্বীকার করেননি ছাত্রলীগ নেতা আরিফুজ্জামান। তবে ঘটনা নিয়ে তাঁর ভাষ্য, তারা ওই কর্মীর অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় এস এম সরকার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত দিন আপনাদের সঙ্গে বিরোধ করে এসেছি, অথচ আপনারা আমার বাবাকে দেখতে এসেছেন। আমি এতদিন ভুল করেছি, এর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’ ছাত্রলীগ নেতা আরও দাবি করেন, ওই কর্মী নিজেই তাঁকে জুতা দিয়ে মারতে বলেন। তখন তিনি নিজে না মেরে পা থেকে জুতা খুলে এগিয়ে দেন। তখন তিনি নিজেই জুতা মারেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ জানান, হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষু বাবার বেডের পাশে বসে পায়ের জুতা খুলে দিয়ে হোসেন নামের এক কর্মীকে নিজের গালে আঘাত করতে বাধ্য করার দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। এ কারণে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved