শিরোনাম :
সূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন চলছে শীতকালে ১৬ গুণ বেশি দূষিত ঢাকার বায়ু, শীর্ষে শাহবাগ ফতুল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আটক ৫০ ট্যাঙ্কের পর কি যুদ্ধবিমান পাবে ইউক্রেন? পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত বেড়ে ১০০ বিশ্বজুড়ে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে আবারও বড় মেয়েকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা জাপানি মায়ের ভারতে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৪ নানা অপরাধে চাকরিচ্যুতিসহ শাস্তি পেলেন ইসির ৬৯ জন ভুল তথ্যে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমেরিকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবারও বাংলাদেশের কোচ হাতুরুসিংহে বিএনপির দম ফুরিয়ে গেছে বলে নীরব পদযাত্রা করছে: কাদের সাহস থাকলে দেশে মামলা ফেস করুন, তারেককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের হাতে টাকা নেই তাই বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে: মোশাররফ

কমবে পথের দূরত্ব, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

  • রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

ঢাকা: রাত পোহালেই বহুল কাঙ্ক্ষিত দেশের দুটি সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর একটি নড়াইলে মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত, আরেকটি নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত। মধুমতি সেতুটি দেশের প্রথম ছয় লেনের কোনো সেতু, যা কালনা সেতু নামেও পরিচিত। আর নারায়ণগঞ্জ-বন্দরের মধ্যে নির্মিত সেতুটি তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু হিসেবে পরিচিত।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা দুটি সেতুই লাখো মানুষের বহু দিনের কাঙ্ক্ষিত। সেতু দুটি উদ্বোধনের ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হবে। পথের দূরত্ব অনেক কমে আসবে। থাকবে না কোনো ভোগান্তি। এর ফলে ওই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যেও আসবে গতি। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ভূমিকা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

মধুমতি সেতুতে উপকৃত হবে ১০ জেলার মানুষ

যশোর, নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত মধুমতি সেতু। এর দ্বারা উপকৃত হবে অন্তত ১০ জেলার মানুষ। ৬৯০ মিটার দৈর্ঘ্য আর ২৭ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থের এই সেতুর মাঝখানে বসানো হয়েছে ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের স্প্যান। ধনুকের মতো বাঁকা (নেলসন লোস আর্চ টাইপ) এই স্প্যানটি ভিয়েতনামে তৈরি। তবে এর দুই পাশে যুক্ত থাকা অন্য স্প্যানগুলো কংক্রিটের তৈরি।

মোট ছয় লেনের এই সেতুটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। এরমধ্যে দ্রুতগতির লেন থাকবে চারটি। বাকি দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেই সঙ্গে সেতুর দুই পাশে রয়েছে ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সংযোগ সড়ক, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে যশোর ও নড়াইলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ঘাটে সেতুর প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ, পদ্মা সেতু পারি দেওয়ার পরপরই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রবেশদ্বার কালনা ঘাট। আর এ কারণে পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল পেতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মধুমতি নদীর এই ঘাটে একটি সেতুর অভাব। তবে বহু প্রতীক্ষার পর সেতুটি উদ্বোধনের ফলে দূর হবে সব দুর্ভোগ। সেই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন দুয়ার খুলবে এই সেতু।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে মধুমতি নদীর ওপর ৬৯০ মিটার দীর্ঘ মধুমতি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে কালনা সেতু নামে পরিচিত। এটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং ঝিনাইদহ জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ দ্রুত সড়ক যোগাযোগ সুবিধা পাবে। কারণ, সেতুটি কালনাঘাট থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব কমিয়ে দেবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলার মানুষ কম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল, যশোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভ্রমণের সময়ও কমিয়ে দেবে। কারণ এতে ঢাকা থেকে দূরত্ব হবে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার।

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, সেতুটি এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে সহজ করবে। বেনাপোল স্থলবন্দর, মংলা সমুদ্র বন্দর ও নোয়াপাড়া নদী বন্দরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বাসিন্দারা একদিনের মধ্যে ঢাকায় তাদের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরতে পারবেন। সেতুটি চালু হলে কালনা ফেরি ঘাট হয়ে যেতে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে জানান কয়েকজন যাত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা এবং নড়াইল জেলার অন্তর্গত লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে মধুমতি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সেতু পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারায়ণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জ-বন্দরের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের নামে। এটি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বন্দর উপজেলার সাথে সংযুক্ত করবে। অনেক আগেই সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হয়। অবশেষে এই সেতুটি চালু হতে যাওয়ায় এক দিকে যাতায়াতব্যবস্থা যেমন সুবিধাজনক হবে তেমনি বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি। এই সেতুর ফলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করবে।

সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ বলেন, ১.২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলগামী যানবাহন এবং একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহন যানজট এড়াতে এবং সময় বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে সক্ষম করবে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, এতে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙ্গা হবে। কারণ, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে যানবাহনের ভ্রমণের সময় কমিয়ে দেবে। সেতুটির সঙ্গে নতুন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পদ্মা সেতু থেকে জনগণ সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি।

সেতুটি পূর্বে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জকে পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এখন মোটরচালিত নৌযানই নদীর দুই পাড়ের মানুষ ও অন্যান্য এলাকার জনসাধারণের জন্য পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

বন্দর উপজেলার বাসিন্দা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইউসুফ আতিক মালিক বলেন, সেতুটি স্থানীয় এবং জাতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হবে। এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন ঢাকার যাত্রাবাড়ী রুট ব্যবহার করে পোস্তগোলা ব্রিজ হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যায় অথবা চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড রুট ব্যবহার করে গন্তবে পৌঁছায়।

শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হলে পঞ্চবটি বিসিক শিল্প এলাকা, পঞ্চবটি মোড়, চাষাঢ়া মোড়, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জের চট্টগ্রাম সড়ক বা ঢাকার পোস্তগোলা ও শনির আখড়া রুটে যানবাহনকে তীব্র যানজটের সম্মুখীন হতে হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, এর মধ্যে ২৬৩.৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫.২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে।

শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর উপজেলা ও সোনারগাঁ উপজেলাকে জেলা সদর থেকে পৃথক করেছে। এ দুটি উপজেলা সরাসরি সড়কপথে জেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। দুই উপজেলা থেকে জেলা সদরে যেতে কাঁচপুর ব্রিজ (শীতলখ্যা-১ সেতু) ব্যবহার করতে হতো, যার জন্য নৌকায় নদী পথের মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্ব সড়ক পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো।

বন্দর উপজেলায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে কাজের জন্য নৌকায় করে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকেও মানুষ নৌকায় শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে বন্দর বা সোনারগাঁ উপজেলায় আসে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি বন্দর উপজেলা ও জেলা সদরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved